যে দাবি গুলো মেনে নিলে মিয়ানমারে ফিরবে রোহিঙ্গারা

0

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত দুই দিন তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে সফরকারী মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। বৈঠকে রোহিঙ্গারা তাদের শর্তের বিষয়ে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলকে সাফ জানিয়ে দেন যে, তিন শর্তে মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি আছে তারা।

বৈঠকে আসিয়ান জোটের আহা সেন্টারের তত্ত্বাবধানে নন-মিলিটারি সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করা এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পরবর্তী সময় নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে প্রতিনিধি দল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। নাগরিকত্ব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে মিয়ানমার সরকারের শীর্ষ মহল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের এ তিনটি শর্ত মেনে নিলে তারা রাখাইনে ফিরতে পারেন। তবে রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসনে নন-মিলিটারি সেফ জোন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আসিয়ান কো-অর্ডিনেটিং সেন্টার ফর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের (আহা সেন্টার) সংশ্লিষ্টতায় সমর্থন আছে রোহিঙ্গাদেরও। তাই মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আঞ্চলিক জোট আহা সেন্টারের প্রতিনিধি দল এই প্রথম কক্সবাজারে আসে এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিল। রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গেলে আহা সেন্টারই তাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো মনিটরিং করবে।

সূত্র আরও জানায়, মিয়ানমার সরকার তাদের এ তিনটি মৌলিক শর্ত মেনে নিলে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তাদের ধ্বংস করে ফেলা বাড়িঘর তৈরি করে দেওয়ার কথাও বলবে না। এক্ষেত্রে তাদের জমিজমাগুলো ফিরিয়ে দিলেই চলবে।

জানা গেছে, কক্সবাজার সফরকালে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল শর্তসাপেক্ষে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। তবে নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রতিনিধি দলটি ফিরে গিয়ে তাদের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।

এ বিষয়ে কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনে তিন ধরনের নাগরিক ক্যাটাগরি রয়েছে। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের জন্য কোনটি দেওয়া হবে সেটি মিয়ানমার সরকার ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংলাপে নির্ধারিত হবে। এছাড়া বৈঠকে আগামীতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে প্রতিনিধি দল। আর রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে আসিয়ানের তত্ত্বাবধানে সেফ জোন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও আপত্তি নেই মিয়ানমারের। এজন্যই আহা সেন্টারের প্রতিনিধিদের নিয়ে কক্সবাজার সফর করে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল।

এদিকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে দুই দিন ধরে বৈঠক শেষে ঢাকায় ফিরে গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে মিয়ানমার ও আহা সেন্টারের প্রতিনিধি দল। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব কামরুল আহসানের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা নেতাদের বৈঠকের ফল নিয়ে আলোচনা করে প্রতিনিধি দল। এ সময় মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কাছে নতুন করে আরও ছয় হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, এর আগে মিয়ানমারের কাছে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই-বাছাই করার জন্য হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য প্রায় ১২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত আছে, যাদের নাম-ঠিকানা মিয়ানমার সরকার এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। মিয়ানমার চাইলে একদিনের মধ্যেই তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব।

শেয়ার করুণ

আপনার মন্তব্য দিন