টপ পোষ্ট

‘অনেক হয়েছে, জয় থাকতেই থেমে যাও’ !!

0

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামার পর সমর্থন এসেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। তবে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার পর উল্টো সুর শুরু হয়েছে এখন। ছাত্রদেরকে ঘরে ফেরার অনুরোধ করছে সাধারণ মানুষই।

গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন আটকে রেখে বিক্ষোভ করে ছাত্ররা। সেই থেকে চলছে।

 

ছাত্রদের অবস্থান সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও রয়েছে সড়কে সড়কে। আবার ‘ভাঙচুর ও আগুনের ভয়ের কথা বলে’ বাস নামাতে চাইছে না পরিবহন মালিকরা। দূরপাল্লা ও স্বল্প পাল্লার পাশাপাশি নগর পরিবহনেরও বাস বন্ধ প্রায়। এই অবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে জনজীবনে।

ছাত্র বিক্ষোভে জমে যাওয়া কাজগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করতে বের হয়ে বাস না পেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া গুনে রিকশা বা ভ্যানে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আর যারা দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে পারছেন না তাদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পোঁছাতে হচ্ছে।

 

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় বেশ কিছু যাত্রীদের। ফিরোজ মিয়া নামের এক যাত্রী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বাস পাচ্ছি না।

ছাত্রদের এই আন্দোলনে আমাদের জীবন থমকে যাচ্ছে। তাই ছাত্র বলব তোমরা তোমাদের কাজটুকু করে দেখিয়ে দিয়েছ। সত্যি তোমরা এ কাজ না করে দেখালে এত বড় অনিয়ম হচ্ছে সেটা বের হত না। এবার সরকারকে তাদের কাজ করার সুযোগ দাও। অনেক হয়েছে, জয় থাকতেই থেমে যাও।’

 

দুর্ভোগে পড়া আরেক যাত্রী সোহানা বলেন, ‘এটা আমাদের খুব সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। ঠিকমতো অফিসে যেতে পারছি না, তাছাড়া মাসের শুরু হলেও বেতন হয়নি। রিকশাওয়ালারা তো ইচ্ছে মত ভাড়া নিচ্ছে। আর পারছি না। সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে ছাত্রদের দেখানো পথ যেন আমাদের ট্রাফিকরা মেনে চলেন, তবেই এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সফলতা আসবে।’

ছাত্ররা যে নয় দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে সেগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা এসেছে বুধবারই। আর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাবা এবং মা ছাত্রদেরকে রাস্তা থেকে উঠে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

 

সেদিন বিকালে ছাত্ররা উঠে গেলেন গভীর রাতেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছাত্র নামধারীদের রাস্তায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। কিন্তু পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

শাহবাগ মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আবদুর রহিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গত কালের তুলনায় আজ যান চলাচল অনেকটা বেড়েছে। তবে রাস্তায় বাস দেখা যাচ্ছে খুবই কম।

 

সকাল থেকে এখানে পাঁচ থেকে সাত জনের মত শিক্ষার্থী এখানে বিভিন্ন গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে, আমরা তাদের কোন বাধা দেইনি। আমাদের ওপর নির্দেশ আছে শিক্ষার্থীদের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে।’

গত বরিবার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আজ নিয়ে টানা পাঁচ দিন ধরে রাজধানীসহ ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভ করছে তারা।

শেয়ার করুণ

আপনার মন্তব্য দিন